দিয়া আরেফিন’র নানীর বাণী দিয়ার্ষি আরাগ
দিয়ার্ষি আরাগ রচিত দিয়া আরেফিন’র নানীর বাণী এক
অপার বিস্ময়। পরতে পরতে এর বিস্ময়। শব্দ, বাক্য
আর ভাবনার বিস্ময়। এই বই আপনাকে ভাৰাৰে,
আঘাত দেবে, আনন্দ দেবে আর প্রতি পদে পদে বিস্ময়ে
অভিভূত করবে। কখনও কখনও এতটাই গভীর এটার
চিন্তার ব্যপকতা যে আপনি হয়তাে এক অচেনা
ভালােলাগা, আর অচেনা বিহবলে আপ্লুত হবেন ।
এর অসাধারণ তীর্যক মন্তব্য, শব্দের শ্লেষ, শব্দ প্রয়ােগের
কারিশমা, বাক্যবিন্যাস, বুদ্ধির চমৎকারিত্ব, ভাবনার
নতুনত্ব আপনাকে এক অন্যজগতের সন্ধান দেবে।
এখানে আছে ব্যাপক নির্মমতা। আছে পরিহাস, আছে
প্রথাগত সত্যকে দুমড়ে মুচড়ে দেয়ার নির্মোহ ভঙ্গি,
আছে শাণিত শব্দের হাতুড়ি। সবকিছুই আসলে
উপলব্ধিগতভাবে সত্য। এবং সংহত।
পাঠকদের কাছে একটি অনুরােধ বইটি একবারে নয়,
ধীরে ধীরে পড়ুন। এতে হজমেরও সুবিধা হবে আর
পাবেন সর্বোচ্চ উপভােগের স্বাদ । আর যােগসূত্র খুঁজে
পাবেন নিজের ভাবনার, হয়তাে উন্মোচিত হতেও পারে
কোনাে নতুন দিগন্ত, খুলে যেতেও পারে আপনঘরের
চিরআবদ্ধ কোনাে জানালা ।
আপনাকে স্বাগতম।
প্রথম পর্ব, স্বাগতম
১
সবাই যখন নীরব তখন কথা বলে শুধু লেখা ।
২
কোনাে বিশ্বাসই অবিচল ও অবিকল থাকে না।
শুধু জীবন নয় ; পরিবার, রাষ্ট্র, আইন, নৈতিকতা, সাহিত্য, বিজ্ঞান, আন্দোলন কিংবা
ধর্ম সব বিবর্তনের শিকার ।
৩
বিশ্বাসীরা সেই বিশ্বাস প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে যে বিশ্বাসে সে নিজে স্থির নেই।
যিনি অধিকার সৃষ্টি করেন, তার লীলা আছে। তিনি প্রকৃতি। তিনি শ্রীকৃষ্ণ।
যিনি অধিকার আদায় করেন, তার আদর্শ আছে। তিনি বিপ্লবী। তিনি চে গুয়েভারা।
যিনি অধিকার ভিক্ষা করেন, তার অনিশ্চয়তা আছে। তিনি ভিক্ষুক। তিনি মােহনদাস
করমচাঁদ গান্ধী।
৪
ধর্ম ও মদ যতই লেবেল দেখে পান কর না কেন, নাতনী ; ফলাফল একটাই,
মাতলামি।
৫
রুটির বিনিময়ে ঈশ্বর আমাদের স্বাধীনতা কিনে নিয়েছেন, আর রুটির পারমিট
দখলকরে নিয়েছেন পুঁজিপতিরা।
স্বর্গের বিনিময়ে ঈশ্বর আমাদের প্রতিবাদ কিনে নিয়েছেন, আর স্বর্গ প্রবেশের ঠিকাদারী
নিয়ে রেখেছেন আমাদের ধর্মগুরুরা।
ঈশ্বর নামক বিষবৃক্ষে পুঁজিপতি ও ধর্মগুরু একই বৃন্তে দুটি পপি ফুল।
৬
পুরােহিত ও বিজ্ঞানীর দ্বন্দ্বের সমাপ্তি ঘটেছে।
মন্দিরের চূড়ায় ব্যবহার করা হয়েছে বজ্রনিরােধক দন্ড।
৭
নির্বোধ এটা শুনতে চায় না যেটা আপনি ভাবছেন।
নির্বোধ সেটা শুনতে চায় যেটা সে ভাবছে।
৮
ভগবানের বুকে লাথি মারা যতটা সহজ ও নিরাপদ ;
আল্লাহর গায়ে চিমটি কাটা ততটাই কঠিন ও অনিরাপদ।
৯
বহু ক্ষুধার্ত পুরুষ খাওয়ার আগেই বমি করে দেয়।
অথচ এরাই স্বপ্ন দেখে একদিন বাহাত্তরটা খাবে।
১০
বিশ্বাস থেকে অন্ধবিশ্বাসের দূরত্ব বেডরুম থেকে শােবার ঘরের দূরত্বের সমান।
বিশ্বাসীরা থাকে স্বামীর ভূমিকায়, অন্ধবিশ্বাসীরা স্ত্রীর।
আর তাদের সহবাসের ফলে যে কন্যা সন্তান উৎপাদিত হয় তারই নাম চাপাতি।
১১
রােহিঙ্গা নামে বার্মায় এক আদিবাসী জনগােষ্ঠী ছিল! মনে কি পড়ে, বন্ধু?
রােহিঙ্গারা নাকি চরম খারাপ ছিল, এমনকি কুকুরেরও অধম!
ওদের জন্মেই কি দোষ ছিল?
ওরা আবার মুসলিমও ছিল! এটাও তাে বড় অপরাধ, তাই না?
ছিনতাই ধর্ষণ চুরি ডাকাতিতে ওরা ছিল বিশ্বসেরা, এই তাে?
এদের বাচ্চারাও কি সব জানােয়ারের বাচ্চা ছিল ?
রােহিঙ্গা নারীরাও বুঝি ডাইনীর চেয়ে খারাপ ছিল!
এইসব নরপশু রােহিঙ্গাদের মরাই উচিত হয়েছে, হচ্ছে! তাই না ?
মরেছে এরা সমুদ্রে ডুবে,
মরেছে এরা বুলেটের আঘাতে, ছুরিকাঘাতে,
মরেছে দুর্গম পাহাড়ে না খেয়ে খেয়ে,
মরেছে এরা শীতে বৃষ্টিতে।
আর এখন ধীরে ধীরে নিঃচিহ্ন হওয়ার পথে হাঁটছে এই উপজাতি গােষ্ঠীটি।
যদি ভালাের সঙ্গে মিশে যায় ভালাে,কিন্তু যদি খারাপের সঙ্গে মিশে যায়? খারাপ, চরম
খারাপ।
ভালাে কোথায়?
ওরা কেন দরিদ্র হলাে?
কেন অসভ্যগুলাে আলােকিত হতে পারলাে না?
ওদের এই অধঃপতনের জন্য কি শুধু এরাই দায়ী?
এই সমাজ, এই ধর্ম, এই রাষ্ট্র ব্যবস্থা, এই বিশ্ব ব্যবস্থা একটুও দায়ী নয়?
ওদের প্রয়োজন ছিল সুশিক্ষা, আমরা কোনাে শিক্ষাই দিই নি! স্কুল দিই নি, বই দিই।
নি, বরং সুযােগ পেলেই এদের দিয়েছি কুশিক্ষা।
এদের প্রয়ােজন ছিল সংস্কৃতির বিকাশ, আমরা ধরিয়ে দিয়েছি ধর্ম বই। এরা পিছিয়ে
ওদের প্রয়ােজন ছিল বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, আমরা ধরিয়ে দিয়েছি অস্ত্র । ওরা হয়েছে সন্ত্রাসী ।।
ওদের প্রয়ােজন ছিল আলাে, আমরা রেখেছি অন্ধকারে। ওরা এখন আলাে দেখলেও
ভয় পায়।
ওদের প্রয়ােজন ছিল সুষ্ঠু কর্মসংস্থান, আমরা লাগিয়ে দিয়েছি মাদক ব্যবসায় । ওরা হয়ে
গেছে অপরাধী।
সর্বোপরি, ওদের ভালবাসার অভাব ছিল, আমরা করেছি ঘৃণা। ওরা বেড়ে উঠছে।
হিংস্রতা নিয়ে।
এই ধর্ম, রাষ্ট্র ও তথাকথিত বিশ্বসভ্যতার করুণ শিকার রােহিঙ্গা মুসলমান।
ওদের ভুলে গেছি আমরা সবাই!
যারা এদেরকে জাতভাই বলে কান্নাকাটি করে করে সাগর বইয়ে দিয়েছিল, সেই ভণ্ড
মােল্লাগুলােও এখন রােহিঙ্গা শব্দটি গালি হিসেবে ব্যবহার করে। তথাকথিত মুসলিম
ভ্রাতৃত্বও যে কত বড় ইতরামি তা এই ঘটনাও একটা বড় প্রমাণ। রােহিঙ্গা নারীদের
সঙ্গে এদের আচরণ দেখলে তা আরও স্পষ্ট হয়ে যায়। হুজুরদের সঙ্গে হােটেলে ধরা
পড়ে রােহিঙ্গা নারী। বাহ্!
আমরা তাদেরকে নিয়ে আর ভাবি না। তবে হ্যাঁ, শুধু যদি তারা কোনাে অপরাধ করে
তবেই আমরা শুধু তাদের মনে করি, তাদের জাত তুলে নিন্দার ঝড় তুলি
সম্মিলিতভাবে। এই বুঝি মানবতা?
শান্তির জন্য নােবেল বাঙালি পেয়েছে! সেই শান্তি আজও নীরব।
শান্তির জন্য নােবেল বার্মিজরাও পেয়েছে! ওখানে শান্তির পায়রা আকাশ থেকে এখনও
গুলি বর্ষণ করে রােহিঙ্গা পল্লীতে।
আমরা সবাই ভদ্রলােক, কেন এই পশুদের জন্য বৃথা সময় অপচয় করব, বলুন!
এরচেয়ে চলুন, এই চমৎকার অবসরে
আমরা আরও একটা শান্তি ও মানবতার মেনুফেস্টো রচনা করে ফেলি!
গরীবের পকেট কেটে সস্তায় শান্তির নােবেল পেলে
কে আর হতে চাইবে রবীন্দ্রনাথ!
১২
পাকিস্তান সাপাের্টার বাঙালিরা হচ্ছে সেই বাস্টার্ডস প্রজন্ম যারা নিজ মায়ের রেপিস্টকে
বাবা ডাকে।
দ্বিতীয় পর্ব, প্রেম
১
ভালবাসা এক পরিধিবিহীন বৃত্ত, যার কেন্দ্র সর্বত্র ।।
২
সব প্রেমেই কাম থাকে কিন্তু সৰ কামে প্রেম থাকে না।
৩
যুদ্ধে স্বার্থ ত্যাগ নেই;
ভালবাসায় আছে।
৪
ভালবাসাই ধর্মদ্রোহিতার প্রধান উৎস।
৫
নাতনী, নিজের পাগলামি নিয়ে লজ্জিত হয়াে না ; ওটাই প্রেম।
৬
প্রেম ছাড়া শরীরের খেলা লবণ ছাড়া চটপটি ।
৭
দাবানল হৃদয় ভাঙ্গার গন্ধ ছড়ায়।
৮
যৌনতা দু'তরফের সেবা । যার দাতা ও গ্রহীতা নর-নারী উভয়েই। যেটা প্রকৃতপক্ষে
প্রকৃতির লীলা, প্রকৃতির খেলা। যৌনতা প্রকৃতির পূজা ।
যৌনতা উপভােগ্য তখনই হতে পারে যদি সেটা দুটো শরীর ও মনের অনুভবের বিষয়।
আসলে যৌনতা হচ্ছে পরস্পরকে গভীরভাবে জানা,
পরস্পরকে ভালবাসা,
পরস্পরকে আনন্দ দেয়া,
এবং সর্বোপরি প্রকৃতির ও মানুষের জন্য দায়িত্ব পালন করা ।
নারী কিংবা পুরুষ কেউই ভােগের সামগ্রী নয় ।
৯
প্রেম যত গভীর।
শরীর তত আকর্ষণীয়।
১০
ঘটনা একই। ব্রেকআপ। যে ছেড়ে যায় তার দুঃখ কম। যে দাঁড়িয়ে থাকে তার হয়তাে
বেশি।
নাতনী, কানে কানে বলি, আগে 'না' শােনার চেয়ে আগে 'না' বলা উত্তম।
১১
বই চোখ খােলে
প্রেম হৃদয়।
১২
ভালবাসা কৃষ্ণ
আমরা সবাই রাধা।
১৩
সন্তানের মাকে ভালবেসে আপনি সন্তানের কাছ থেকে ভালবাসা পেতে পারেন।
১৪
আমেরিকাতেও যমুনা প্রবহমান ; রাধা জানে।
১৫
কৃষ্ণের বাঁশি শােনে শাশুড়ি ও ননদ যার শত্রু হয়ে যায় তিনিই রাধা।
১৬
যৌনতা ছাড়া প্রেম হাহাকার।
প্রেম ছাড়া যৌনতা নেশা।
একটি সার্থক প্রেম হাহাকার ও নেশার সংমিশ্রণ।
১৭
বাঙালি রাসলীলা দেখে পরকীয়া শেখে;
প্রেমটা শেখে না।
১৮
কুৎসিত মানুষও যৌনতার স্বাদ পায়, আদর পায়, ভালবাসা পায় ।
প্রেম তুমি আছ বলেই।
১৯
প্রেম কম কারণ ভয় বেশি
ভয় বেশি কারণ প্রেম কম।
২০
আইন দিয়ে যারা প্রেমের বিচার করে তারাই হয়তাে আসল অপরাধী।
২১
বাস্তবতা স্বপ্নের চেয়ে গুরুত্ববহ।
স্বপ্ন যখন ভালবাসার তখন তা বাস্তবের চেয়েও গুরুত্ববহ।
হোক না ভুল!
তৃতীয় পর্ব, বেশ্যা
১
বেশ্যা ও বেশ্যালয় দুটোরই সৃষ্টিকর্তা ও মালিক পুরুষ।
২
বেশ্যা যখন তার কাস্টমারকে 'স্যার' বলে সম্বোধন করে তখন বুঝতে হবে সে আসলে
"শুয়ােরের বাচ্চা' বলতে চেয়েছিল।
বলতে পারে নি বেঁচে থাকার তাগিদে।
৩
বেশ্যাবৃত্তির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন পুঁজি ও পুরুষতন্ত্র উচ্চারিত কুসংস্কার। এটা কাজ নয়,
নির্যাতন। আর বেশ্যাবৃত্তিকে হালাল করার ভােগবাদী ইতরামি হলাে বেশ্যাকে যৌনকর্মী
হিসাবে উপস্থাপন করার অমানবিক প্রয়াস।
৪
তথাকথিত মুক্তমনাদের মাঝে যেভাবে বেশ্যাবৃত্তির প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ছে, শিগগিরই তারা
ইভেন্ট খুলবে : প্রত্যেকেরই আছে বেশ্যা হওয়ার পূর্ণ অধিকার।
৫
দুনিয়াতে বেশ্যা লিমিটেড
কাস্টমার আনলিমিটেড।
বেহেস্তে বেশ্যা আনলিমিটেড।
কাস্টমার লিমিটেড ।
৬
গােপনীয়তা বজায় রাখার পরও তিনি সমাজের কাছে বেশ্যা। আর যিনি গােপনীয়তা
প্রকাশ করে দেন তিনি নারীবাদী।
অথচ খরচ সমানই ছিল!
৭
এদেশে বেশ্যালয় বৈধ
ভালবেসে যৌনতা অবৈধ।
৮
বেশ্যালয় আসলে সমাজ স্বীকৃত ধর্ষণালয়। পুরুষরা ওখানে অসহায় নারীদের শারীরিক
ও মানসিকভাবে ধর্ষণ করে।
অনিচ্ছাকৃত যৌনতা ধর্ষণ । টাকার বিনিময়ে যৌনতা ধর্ষণ ও ব্ল্যাক মেইলিং দুটোই।
৯
বেশ্যাদের কাছে যাওয়ার একটা সুবিধা হলাে শীঘ্রপতন ওখানে কোনাে সমস্যা নয় ।
১০
বেশ্যার পারিশ্রমিক আর ইসলামী দেনমােহর একই বস্তু।
১১
সিনেমাপাড়াগুলাে দক্ষ বারবনিতা তৈরির আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
সেজন্যই ইন্ডিয়ান বেশ্যাগুলাে বিশ্বসেরা। কেউ বিশ্ব সুন্দরী, কেউ ভারত সুন্দরী আবার
কেউ মিস ক্যালকাটা।
১২
প্রাইভেট বেশ্যা ক্রয়ের ইসলামী চুক্তিকে মুমিন মুমিনারা বিবাহ বলে চালিয়ে দিচ্ছে।
১৩
বেশ্যা কখনােই সঙ্গমের আনন্দ পায় না। শুধু কাস্টমার ইতরটাকে খুশি রাখার জন্য।
মাঝেমধ্যে শীকারের অভিনয় করে।
বেশ্যাখাের গর্দভগুলাে বুঝতে পারে না!
পর জন্য তিনি
১৪।
পড় তােমার নানীর নামে :
নিশ্চয়ই হুরীখােরদের জন্য তিনি অসংখ্য স্বৰ্গবেশ্যা তথা হুরী উপভােগের সুসংবাদ
দিয়ে গেছেন।
যেমন দিয়ে থাকেন বেশ্যার দালালেরা।
১৫
বেশ্যার কাছ থেকেও যিনি প্রেম প্রার্থনা করেন তিনিই কবি।

Post a Comment
0 Comments